দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট এ শুমারি পরিচালিত হবে। নৌযান শুমারির প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।
সোমবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে নৌযান শুমারি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ে নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে নৌযান শুমারির উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলা হয়, নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহ খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা।
বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোনো যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা।
সেমিনারে তথ্য দিয়ে জানানো হয়, সারা দেশে লিস্টিং অপারেশনে মোট ইঞ্জিনচালিত নৌযান ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি, এর মধ্যে ঘাটভিত্তিক নৌযান ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭টি, খানাভিত্তিক নৌযান ৭০ হাজার ৭৬১টি। যার মধ্যে খুলনা বিভাগে মোট ১০ হাজার ৩২৭ টি নৌযান পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে ঘাটভিত্তিক নৌযান সংখ্যা ৭ হাজার ৪১৪টি এবং খানাভিত্তিক নৌযান সংখ্যা ২ হাজার ৯১৩টি।
সেমিনারে জানানো হয়, শুমারির আওতা বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান; ডাম্ববার্জ ও অন্যান্য যেকোনো নৌযান যা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ সকল নৌযানসমূহ। সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এবং তাদের মালিকানাধীন যে সকল নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো নৌশুমারির আওতার বাইরে থাকবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নৌযান শুমারিসহ সকল শুমারিই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, সরকার প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি করতে যাচ্ছে। নৌযান শুমারি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি তোফায়েল আহমেদ ও নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুল আলীম।
সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, নৌ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।