ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালালে তেহরান তার ‘দৃঢ় ও উপযুক্ত জবাব’ দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টেলিফোন আলাপে আরাগচি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করবে, তাদেরও ইরানের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরান বারবার সতর্ক করে আসছে যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইরানের দাবি, তারা সংঘাত চায় না, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।