সকল মেনু

সবশেষ

দক্ষ চালক তৈরিতে টিটিসিগুলোকে ৩ মাসের সময় দিলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬
পড়তে: ৩ মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দক্ষ চালক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, দক্ষ চালক তৈরিতে সফল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। আগামী তিন মাস পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী ভবনে ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষদের কাছে গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে বামপাশে গাড়ি চালানোর নিয়ম থাকায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দেশেই বামপাশে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নেভিগেশন, সড়কের মানচিত্র, ট্রাফিক সংকেত ও আধুনিক ট্রাফিকব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

 

প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গাড়ির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারার পরই তাদের সড়কে চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। এর আগে মাঠ বা উপযুক্ত খোলা জায়গায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে প্রশিক্ষণার্থীদের চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। চোখে সমস্যা থাকলে তাদের উপযোগী অন্য প্রশিক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। কারণ, চোখের সমস্যা থাকলে বিদেশে গিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। বিদেশের অনেক শহরে দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হয়। নারীদের প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।

 

গাড়ির মৌলিক যান্ত্রিক বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িতে হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ও সমাধানের ধারণা প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা প্রয়োজন। এতে তারা ছোটখাটো সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের কাছ থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হবে। কতজনকে বামপাশে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। যেসব কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে তুলতে পারবেন, তাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।

 

প্রশিক্ষণের গাড়িগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িগুলো শুধু প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ, ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গাড়ি সচল থাকে এবং প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত না হন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আটটি বিভাগের ৬৪টি টিটিসির অধ্যক্ষ এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।