সকল মেনু

সবশেষ

কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়, তাই এখনও স্বপ্ন দেখি: নুসরাত ফারিয়া

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

নুসরাত ফারিয়া। মডেল ও অভিনেত্রী। আজ তাঁর জন্মদিন। অভিনয়, গান ও উপস্থাপনা–বিনোদনের নানা মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করেছেন।

 

এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটবে?
গত পাঁচ বছর জন্মদিনে দেশের বাইরে ছিলাম। এ কারণে ঢাকায় জন্মদিন উদযাপন করা হয়নি। এবার ঢাকায় খুব আনন্দেই কাটবে জন্মদিন। তবে বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, কাছের মানুষদের সঙ্গে থাকব। জন্মদিনে সবচেয়ে ভালো লাগে মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেতে। ভক্তরা যেভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। এখন জন্মদিনকে শুধু আনন্দের দিন হিসেবে দেখি না; বরং গত এক বছরে কী করেছি, কী শিখেছি, কোথায় ভুল করেছি এবং সামনে কী করতে চাই– এসব নিয়েও ভাবি।

শৈশবের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?
খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় জন্মদিন মানেই ছিল নতুন জামা, কেক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তখন জন্মদিনের আনন্দটা ছিল খুব সরল। কে কী উপহার দেবে, কেক কখন কাটব– এসব নিয়েই উত্তেজনা থাকত। এখন জীবন অনেক ব্যস্ত, দায়িত্বও বেড়েছে। তাই ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে ভালো লাগে। ওই সময়ের আনন্দটা অন্যরকম ছিল।

 

চলচ্চিত্রের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?
চলচ্চিত্র এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দর্শকের রুচি বদলেছে, গল্প বলার ধরন বদলেছে, মাধ্যমও বেড়েছে। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। ফলে শিল্পীদের জন্য সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও বেড়েছে। দর্শক এখন অনেক সচেতন। শুধু তারকা থাকলেই একটা কাজ ভালো হবে–এমনটা তারা ভাবেন না। গল্প, অভিনয়, নির্মাণ–সবকিছুর দিকে তারা নজর দেন। আমি মনে করি, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন।

 

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফুটবল ৭১’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?
‘ফুটবল ৭১’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের যে ভূমিকা, সেটি আমাদের ইতিহাসের গর্বের অংশ। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার জন্য আনন্দের। আমি চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানুক। দর্শক সিনেমাটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।

 

‘লাপাত্তা’য় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
‘লাপাত্তা’ করতে গিয়ে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার নিয়মিতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো– এটা আমার কাছে বিশেষ অনুভূতি। এফডিসি আমার চিরচেনা জায়গা। কদিন আগেই সেখানে গানের শুটিং করেছি, এবার ‘লাপাত্তা’র শুটিং করেছি। মেহেদী হাসান হৃদয় এই সময়ের একজন মেধাবী নির্মাতা। দর্শকের পালস বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা।

গল্পের কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?
গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পুরো গল্পটি তাঁকে ঘিরে এগিয়েছে। এটা শুধু থ্রিলার নয়। এখানে সাসপেন্স, থ্রিল ও আবেগের পাশাপাশি কমেডিও আছে। ফলে চরিত্রটিতে অনেক ধরনের শেড রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন চরিত্র করার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নাসির উদ্দিন খান, শাহরিয়ার নাজিম জয়– চমৎকার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি, দর্শকও নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন।

 

জীবনের নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পর অভিনয়ে ফিরেছেন। এই ফেরাটা আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
খুব গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে সবকিছু সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। কিছু পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দেয়, কিছু ঘটনা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমিও অনেক কিছু থেকে শিখেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে পারি। বুঝেছি, কোনো কঠিন সময়ই চিরস্থায়ী নয়। মানুষের ভালোবাসা অনেক শক্তি দিয়েছে। সেই শক্তিতেই আবার কাজে ফিরতে পেরেছি। এখন সামনে তাকাতে চাই।

 

প্রায়ই দেশের বাইরে দেখা যায়। সম্প্রতি তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে ঘুরেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেমন?
ভ্রমণ আমার খুব পছন্দের। নতুন জায়গা দেখা, নতুন সংস্কৃতি জানা, নতুন মানুষের জীবনযাপন দেখা– এসব আমাকে অনেক কিছু শেখায়। তুরস্কের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। অক্সফোর্ডেও সময়টা উপভোগ করেছি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কিছু সময় বের করা দরকার। ভ্রমণ আমাকে মানসিকভাবে রিচার্জ করে। ফিরে এসে কাজের প্রতি নতুন উদ্যম পাই।

গান নিয়েও তো আপনাকে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?
গান আমার আরেকটি ভালো লাগার জায়গা। ‘লোকে বলে’ নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতাও চমৎকার। গানটির ভিডিওতে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও দুটি নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা আছে। সময় হলে শ্রোতাদের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করব।

 

উপস্থাপনায় ফেরার ইচ্ছা আছে?
উপস্থাপনা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে এখন অভিনয় ও গানকে বেশি সময় দিচ্ছি। আমি যে মাধ্যমেই কাজ করি, সেখানে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। শুধু কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। কাজটির মধ্যে যেন নিজের ভালো লাগা এবং দর্শকের জন্য নতুনত্ব থাকে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
অভিনয়ে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করতে চাই। সবেচেয়ে বড় কথা, আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নপূরণের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। গল্পনির্ভর কাজ করতে চাই। গানে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।