একসময় ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের সম্পর্কের দূরত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে, একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ককে ‘শত্রুতা’ বলেও আখ্যা দিতে শুরু করেন অনেকে। দুই তারকা ক্রিকেটারের সেই দূরত্বের প্রকৃত কারণ আজও অনেকটাই অজানা। তবে দুজনই বরাবরই নিশ্চিত করেছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন যেন কোনোভাবেই দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে।
তবে প্রথমবার যখন সাকিব-তামিমের আগের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর নেই বলে বুঝতে পেরেছিলেন, তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিল? তৎকালীন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।
সুজন বলেন, ‘এটা প্রথমে আসলে বুঝতে পারতাম না। আমরা যতটা চিনি ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড। সবসময় একসঙ্গে থাকা, আড্ডা, গল্পগুজব করা।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে দুজনের সঙ্গেই সরাসরি কথা বলেন সুজন। তিনি বলেন, ‘একদিন আমি তাদের দুজনের সাথেই বসলাম। তখন শুনলাম ওদের মধ্যে… এটা ওদের পারসোনাল লাইফ হতে পারে। তবে দুজনকেই অনুরোধ করেছিলাম, দল ও দেশের স্বার্থে এটা যেন বাইরে না যায়।
কিন্তু তখন সাকিব ও তামিম দুজনই নিজেদের অবস্থানে অনেকটাই দৃঢ় ছিলেন বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে জোর করে হস্তক্ষেপ করার সুযোগও ছিল না তার।
সুজনের ভাষায়, ‘ওরা তো বাচ্চা নয়। কেউ কাউকে এভয়েড করলে আমি তো জোর করতে পারব না। অনূর্ধ্ব-১৮ দলের বাচ্চাদের বলতে পারি- এটা করো, ওটা করো না। জাতীয় দলের হয়ে খেলছে, এত বড়, তাদের তো এসব বলা যায় না।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে সাকিব-তামিম ইস্যুতে প্রকাশ্যে আসা কিছু বিষয় দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছিল বলেও মনে করেন সুজন। অনেকের ধারণা, সেই অস্বস্তির প্রভাব বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পেছনেও ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপের আগে সাকিব প্রথম যখন কথাটা বলল, একটু মনে হয় ইয়ে ছিল। পাবলিকলি বলা… ড্রেসিংরুমের কথা কেন বাইরে যাবে? এটা আমার একদম পছন্দ না। ড্রেসিংরুম আমার জন্য পরিবার। সেখানকার কথা হলো পারিবারিক কথা। ওই ঘটনায় শুরুতে সবাই কিঞ্চিৎ…।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে গিয়ে পুরোনো বিষয়গুলো আর সামনে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। সুজন বলেন, ‘ট্যুরে যাওয়ার পর এই কথাই তুলিনি। আমি বলেছিলাম, এটা নিয়ে যেন কোনো কথা না ওঠে। দলে সাকিবের ভক্ত থাকতেই পারে, তামিমের ভক্ত থাকতেই পারে। তবে পেশাদারিত্ব এসবের অনেক ওপরে। যতই ফ্যান হন, আপনি পারফর্ম না করলে সাকিব-তামিম আপনাকে দলে জায়গা দিতে পারবে না।
সাকিব ও তামিম দুজনই তাকে জানিয়েছিলেন, তাদের ব্যক্তিগত দূরত্ব দলের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। সুজনও এই জায়গায় তাদের সঙ্গে একমত। তার মতে, জাতীয় দলের ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে পেশাদারিত্ব এবং পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
তিনি বলেন, ‘তবে সাকিব-তামিমের সঙ্গে আমি এক জায়গায় একমত, তাদের দূরত্বের কারণে দলের রেজাল্ট খারাপ হয়নি। দিনশেষে সবাই চায় পারফর্ম করতে। এটা পাড়ার দল না যে রাগ করে বলবে আজ ব্যাটিং করব না। এটা আপনার রুটি-রুজি, সম্মান, গৌরব। পারফর্ম করতেই হবে। এখানে কোনো ছাড় ছিল না।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।