সকল মেনু

সবশেষ

১৮ মাসের মেয়েকে রেখে চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য পিয়াস, সামরিক মর্যাদায় দাফন

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

চট্টগ্রামে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক ওরফে পিয়াসের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় তাকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে তার জানাজা হয়।

 

নিহত আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। চার বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিলেন তিনি। শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের কারণে ছোটবেলা থেকেই এলাকায় সবার প্রিয় ছিলেন পিয়াস।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারকে ঘিরেও ছিল তার ছোট্ট সংসার। ১৮ মাস আগে সেই সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান ফাতেমা।

 

নিহতের চাচা মোশারেফ হোসেন বলেন, ১৮ মাস আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে একটি কন্যাসন্তান এসেছিল। মেয়েকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সেই শিশু।

নিহতের ভগ্নীপতি আবু সাঈদ বলেন, পিয়াস ছিলেন চার বোনের একমাত্র ছোট ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অমায়িক। এ কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়।

 

পিয়াসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মালিপাড়া গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ। বৃহস্পতিবার সকালে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ছুটে আসেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা এবাদ উল্যাহ বলেন, পিয়াস খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার এমন অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, মাত্র ১৮ মাসের একটি মেয়েকে রেখে তাকে চলে যেতে হলো।

 

 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই সেনাসদস্য নিহত হন এবং এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে পিয়াসকে দাফন করা হয়েছে। দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।