সকল মেনু

সবশেষ

কাঁচামরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত, স্বস্তির আশা ক্রেতাদের

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : আগস্ট ৩, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

রান্নার অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদান কাঁচামরিচের কেজি রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। দুই-তিন দিন আগে যা ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গত সপ্তাহেও বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

 

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াকেই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের আশা, আজ সোমবার থেকেই আমদানি শুরু হবে। ফলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

 

 

গতকাল রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।

কারওয়ান বাজার, রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে তুলনামূলক ভালো মানের মরিচের দাম আরও কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়ত থেকে বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। সেই বাড়তি দামই শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপছে।

টাউন হল মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, বর্ষার কারণে অনেক এলাকায় মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও গাছ পচে যাচ্ছে, কোথাও ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত মরিচ আসছে না। গতকাল রোববারও আড়ত থেকে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায় কিনেছি। তিনি বলেন, আরেকটি কারণ হলো, বর্তমানে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। আমদানি চালু থাকলে সরবরাহ বাড়ত, দামও এতটা বাড়ত না।

রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমদানি শুরু হলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থে বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা মূল্য কারসাজির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। গণমাধ্যমকে সরেজমিন তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠভাবে বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে। এতে ভোক্তারা প্রকৃত তথ্য জানতে পারবেন এবং গুজব বা বিভ্রান্তি কমবে।

 

 

এর আগে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে বৈঠক হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কয়েকটি উৎপাদন এলাকায় কাঁচামরিচের সরবরাহ কমে বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত আমদানির অনুমতি ও কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।