সকল মেনু

সবশেষ

কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : আগস্ট ২, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যারা মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলেন, তাদের আগে নিজেদের সরকারের আচরণ ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মূল্যায়ন করা উচিত। খবর আইআরএনএর।

আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর দেশটি ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ নানা ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

 

তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদার ভিত্তি আরবি ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করেন।

বাঘায়ি বলেন, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না। এমন দাবি ইসলামের নীতি ও শিক্ষার প্রতি বাস্তব আনুগত্যের বিকল্প হতে পারে না। কারণ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত রয়েছে, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

কোরআনের আয়াত ও মহানবি (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে বাঘায়ি বলেন, মুসলমানদের কখনো জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়।

তার প্রশ্ন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া এসব কি ইসলামের ন্যায়বিচার, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

 

 

তিনি বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। মহানবীর (সা.) সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকও সেই উত্তরই সমর্থন করে।

সম্প্রতি বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) ইরানকে শতাব্দীর অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আধ্যাত্মিক, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার খাতিরে তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সূত্র : আইআরএনএ

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।