সকল মেনু

সবশেষ

চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : আগস্ট ২, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

অফিস কিংবা বাসায় নয়, একেবারে প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন (সোহান) নামে এক পরীক্ষক। খাতা মূল্যায়নে তার সাথে ছিলেন কয়েকজন বন্ধুও। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ৪০০টি খাতা জব্দ করেন ওই পরীক্ষকের কাছ থেকে।

শনিবার রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তোলপাড়া চলছে শিক্ষাবোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক।


রোববার মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে একজন শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ডায়রিতে অরক্ষিত অবস্থায় চারশ খাতা শিক্ষকের কাছ থেকে উদ্ধারের কথা বলা হয়।

 

এদিকে চায়ের দোকানে বসে খাতা জব্দের ঘটনায় কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি রোববার ওই পরীক্ষককে শোকজের চিঠি তার প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

শিক্ষাবোর্ড ও স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে তার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন, যারা সাবেক সাস্টিয়ান। এর মধ্যে একজন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আইরিন লিনজা। তারাও খাতা মূল্যায়ন করছিলেন বলেন জানা গেছে।

আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা দোকানে বসেছিলেন বলে দোকানি ফজলুল হক জানিয়েছেন। তিনি জানান, দোকান লাগানোর সময় তারা ভেতরে পেপার দেখছিলেন। শিক্ষকরা এসে খাতার বস্তাসহ একজনকে নিয়ে যান।

 

জানা গেছে, দোকানে বসে খাতা দেখা হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চায়ের দোকানে হাজির হন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনসহ তিন কর্মকর্তা। প্রথমে দুই কর্মকর্তা দোকানে প্রবেশ করে পরীক্ষক ছাড়াও আরও তিনজনকে দেখতে পান। এর মধ্যে একজন মেয়ে ছিলেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভেতরে প্রবেশ করলে একজন সটকে পড়েন। সত্যতা পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পুলিশ খাতাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করে খাতাগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

 

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখা অবস্থায় পরীক্ষককে পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষককে শোকজ ও তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।