ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চারজনের। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিংয়ের মেয়ে তৃষা সিং। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সোনারি থানা এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি এমনভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় যে ভেতরে আটকে পড়া চারজনকেই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারাতে হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অন্য তিনজন হলেন— সারথক আগরওয়াল, নমন গুপ্ত এবং বংশিকা খান্ডেলওয়াল। ভোররাতের দিকে চারজন একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গাড়ির সামনের অংশ পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং গাড়িটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় তিনটার দিকে। ট্রাকটি আগের রাত থেকেই বিকল হয়ে সড়কের ডান পাশে ডিভাইডারের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রাকটি সরানো সম্ভব হয়নি। সেটিকে অন্য যানবাহনের চালকদের জানান দেওয়ার জন্য পেছনে একটি গাছের ডাল রাখা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে। তবে সেখানে কোনো প্রতিফলক চিহ্ন বা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির ভেতরে চারজনই আটকে পড়েন। গাড়িটি এতটাই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যে উদ্ধারকারীদের গ্যাস কাটার ব্যবহার করে গাড়ির অংশ কেটে তাদের বের করতে হয়। পরে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য জামশেদপুরের এমজিএম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোনারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সুমন জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা চারজনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা দিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর ঝাড়খণ্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিংয়ের মেয়েসহ চারজনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট কোনো বাবা-মায়ের পক্ষেই ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ারও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, চার লেনের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে গাড়িটি প্রায় সম্পূর্ণ চূর্ণ হয়ে রয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা রাতের বেলায় বিকল যানবাহন সড়কে পড়ে থাকলে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কতটা জরুরি, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।