সকল মেনু

সবশেষ

সেচের ট্রান্সফরমার চুরি: বিপাকে কৃষক, বাড়ছে উদ্বেগ

ভিটিভি বিডি ডেক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
পড়তে: ৩ মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ক্ষেত-খামারে সেচের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাতের আঁধারে সেচপাম্পের পাশে স্থাপিত ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে একদিকে যেমন কৃষকের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এরই মধ্যে নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ম গ্রামে কয়েকদিনের ব্যবধানে তিনটি সেচের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এলাকায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কৃষকের জমিতে পানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম সেচপাম্প। আর সেই পাম্প সচল রাখতে প্রয়োজন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। ফলে একটি ট্রান্সফরমার চুরি মানেই শুধু একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ক্ষতি নয় এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে কৃষকের জমি, ফসল এবং উৎপাদন ব্যবস্থা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা এসব ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান ধাতব অংশ আলাদা করে বিক্রি করা হতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব ঘটনায় মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করার আগে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

 

একটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর সেটি প্রতিস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে কৃষককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। আবার সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো একটি ট্রান্সফরমার চুরি করে অপরাধীরা হয়তো সামান্য আর্থিক লাভ করছে, কিন্তু এর ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন, বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপরও।

 

স্থানীয়দের দাবি, শুধু চুরি হওয়ার পর ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেচপাম্প ও ট্রান্সফরমার স্থাপিত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

 

একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিদ্যুৎ বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। কারণ, কৃষকের জমিতে যে ট্রান্সফরমারটি বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়, সেটি কেবল একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের আয়, একটি ফসলের ভবিষ্যৎ এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

 

নরসিংদীর ভূইয়ম গ্রামে কয়েকদিনের ব্যবধানে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা তাই শুধু একটি এলাকার বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ট্রান্সফরমার চুরি হয়তো চোরের কাছে সাময়িক লাভের বিষয়, কিন্তু একজন কৃষকের কাছে এটি হতে পারে একটি মৌসুমের অনিশ্চয়তা। তাই সেচের ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে কার্যকর নজরদারি, দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

কারণ, ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ না হলে শুধু বিদ্যুৎ বিভাগের নয় ক্ষতি হবে কৃষকের, ক্ষতি হবে কৃষির, আর শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনেও।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।