সকল মেনু

সবশেষ

উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার তদন্তে নতুন মোড়, আটক আরও দুই পাইলট

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬
পড়তে: ৩ মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দুজনই অতীতে ইসরাইল সফর করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উড়োজাহাজটির ককপিটে হামলার অভিযোগ ঘিরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম আধাদু জানিয়েছে, গত শনিবার ওই দুই পাইলটকে আটক করে পুলিশ। তারা দুজনই ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাস তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, পাইলটদের আটক রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত মালদ্বীপের ছয় পাইলটের মধ্যে সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এই দুজন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠা ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির সঙ্গে তারা কাজ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ দুই পাইলটকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ হুসাইন শরিফ কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি। এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।

 

ককপিটে হামলার অভিযোগ

আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে তিনি উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করেন এবং উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ফ্লাইদুবাই ঘটনাটিকে ককপিটে ‘বাগ্বিতণ্ডা’ বা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন মাচ্ছার হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে ইসরাইলি এক যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করতে সহায়তা করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পরে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালানোর ১৩ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ২০২২ সাল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তাকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা করেছেন।

পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতের দূতাবাস জানায়, মাচ্ছার সেখানকার একটি হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

 

যাত্রীদের সাক্ষ্যে নতুন দাবি

আসাফ নামের এক যাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজের কর্মীরা অভিযুক্ত পাইলটের বাঁধন কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করেছিলেন এবং যাত্রীদের ভিডিও ধারণ করতে বাধা দিয়েছিলেন। আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেনের মুখে রহস্যজনক একটি বড়ি দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

ওই যাত্রীর আরও দাবি, ফ্লাইটটিতে শুধু পুরুষ কেবিন ক্রু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাইলটকে সহায়তা করার জন্য ক্রুদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব দাবি একজন যাত্রীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করাই ছিল কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য। তবে এ অভিযোগ এবং নতুন করে আটক দুই পাইলটের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

সূত্র: এনডিটিভি

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।