ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বিমানবন্দের রক্তক্ষয়ী হামলার খবর সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি খাতের একটি বড় সম্মেলন। তবে হামলার ভয়ে ইতালি সরাসরি না এসে অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আমরা প্রতিদিন যে বিদ্যুৎ, গাড়ি কিংবা কারখানার শক্তি ব্যবহার করি, তার প্রায় ৮১ শতাংশই আসে তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় খনিজ তেল। পুরো পৃথিবীর তেলের সিংহভাগই তৈরি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। এই অঞ্চলের তিনটি মূল সামুদ্রিক পথ—বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়েই বিশ্বের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ তেল এক দেশ থেকে অন্য দেশে জাহাজে করে পাঠানো হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই পথগুলো বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় জাহাজগুলোকে অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে ইরিথ্রিয়া, মাদাগাস্কার, পাকিস্তান ও জাপানের মতো দেশগুলো। অন্যদিকে রান্নাবান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গ্যাস আমদানিতে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সময়মতো তেল-গ্যাস না পাওয়ায় এই দেশগুলোতে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশই তাদের বিপদের দিনের জন্য জমিয়ে রাখা ‘জরুরি তেলের মজুত’ ব্যবহার করা শুরু করেছে। কিন্তু টানা যুদ্ধের কারণে সেই জমানো তেলও এখন শেষের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তেলের মজুত গত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত ধরে রাখতে পেরেছে কেবল চীন, তাদের কাছে প্রায় ১৪০ কোটি ব্যারেল তেল জমিয়ে রাখা আছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।