বিপরীতমুখী বিশ্ববাজার
আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই দেখা গেছে বিপরীতমুখী প্রবণতা। একদিকে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনার দাম।
সোমবার (৩ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন উদ্বেগও কিছুটা কমেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে।
এদিকে জাপানের ইয়েনের মান ধরে রাখতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনই কম।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতির বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির আগে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।