জাপানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোটো এলাকায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পর থেকে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একটি শপিং সেন্টারের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং পরে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে বেশ কয়েকজন নিহত হন। ভূমিকম্পের কারণে হাজারো মানুষ ঘরছাড়া হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাদের সুস্থ রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও শরীর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে কুমামোটোতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ কারণে বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের হিটস্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবার কুমামোটোতে ৩০০টি এয়ারকন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে। প্রায় ৯ হাজার মানুষ বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা ইউকিয়া সানোউয়ে জানান, সেখানে প্রায় ১ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হিটস্ট্রোকই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। আশ্রয় নেওয়া মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশই বয়স্ক।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর থেকে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বুধবার বিকেলে জেনারেটর পাওয়ার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।
জাপানের কুমামোটোতে ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে হাজার হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি হলো কাশিমা শহরের এওন শপিং সেন্টার। মলটির দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ায় সেখানে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন।
ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর শপিং মলটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এওন-এর প্রেসিডেন্ট জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
কুমামোটোর ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এওন শপিং মলটি গত মাসেই সংস্কারের পর নতুনভাবে চালু করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ভূমিকম্পে কুমামোটো অঞ্চলে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারীরা ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার কারখানাতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের সময় কারখানাটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।