সকল মেনু

সবশেষ

বোরকা পরে ভূমি অফিসে ডিসি, সাধারণ সেজে নিজেই নিলেন সরকারি সেবা

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
পড়তে: ২ মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

ভূমি অফিসে সবসময়কার মতো সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কেউ ব্যস্ত জমির নামজারি নিয়ে, কেউ বা এসেছেন নিজের পেন্ডিং আবেদনের হালনাগাদ জানতে। ঠিক তাদেরই ভিড়ে বোরকা পরে চুপিসারে প্রবেশ করলেন এক নারী। পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই সাদামাটা কণ্ঠে জবাব দিলেন— তিনিও একজন সেবাগ্রহীতা। কিন্তু একটু বাদেই চমকে ওঠার পালা; জানা গেল, সাধারণ এই নারী আর কেউ নন, খোদ ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

 

কাগজে-কলমে থাকা সেবামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষের আসল অভিজ্ঞতা ঠিক কতটা মিলে যায়, তা নিজের চোখে যাচাই করতেই পরিচয় লুকিয়ে উত্তর খান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পা রাখেন তিনি।
বোরকার আড়ালে সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে দীর্ঘক্ষণ অন্যদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা সরাসরি শোনেন ডিসি। শীর্ষ এই কর্মকর্তার এমন অবাক করা গোপনীয় পরিদর্শনের খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল আর প্রশংসার জোয়ার বইতে শুরু করে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনে ভূমিসেবা নিতে এসে সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি, বিলম্ব, অনিয়ম কিংবা হয়রানির মুখে পড়ছেন কিনা, তা সরাসরি জানতে চান তিনি। শুধু মানুষের কথা শোনাই নয়, নিজেও একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো করে অফিসের সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ডিসি ফরিদা খানম। সেবা নিতে আসা মানুষদের প্রতি কর্মীদের আচরণ কেমন, দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো কতটা জটিল বা সহজ— এই সবকিছুই ছিল তার কড়া নজরে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যেন কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া সহজে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যাচাই করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। সেবা নিতে এসে যেন কাউকে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অফিসে বসে প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে সরাসরি সেবাগ্রহীতার অভিজ্ঞতা জানা গেলে সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র বোঝা সহজ হয়। বিশেষ করে পরিচয় প্রকাশ না করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ালে সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।