সকল মেনু

সবশেষ

ইরান যুদ্ধ

নতুন কৌশল চেয়ে সব সেনাকে বার্তা পেন্টাগনের

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : আগস্ট ৩, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

ইরানের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপায় খুঁজতে নিজেদের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই নতুন ও ব্যতিক্রমী ধারণা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে বলা হয়েছে, “ইরানকে চাপ ও শাস্তি দেওয়ার নতুন, সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায় প্রয়োজন।

 

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিস্তৃত পরিসরের সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ওই ই-মেইল পাঠান। এতে তাদের কাছে ইরানকে মোকাবিলার নতুন কৌশল প্রস্তাব করতে বলা হয়।

 

সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ই-মেইলের মাধ্যমে এ ধরনের ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ বা সম্মিলিতভাবে নতুন ধারণা আহ্বান করা অস্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রচলিত সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

কৌশল পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত
দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকম বর্তমানে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছে এবং বিদ্যমান কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

এ বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সব সময়ই উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে কাজ করার ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ করে অ্যাডমিরাল কুপার পদমর্যাদা নির্বিশেষে দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকর অপারেশন পরিচালনায় বিশ্বাসী।

 

 

সৌদি হস্তক্ষেপের পর স্থগিত হয় হামলা
সূত্রগুলোর দাবি, ওই ই-মেইল পাঠানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিলেও সপ্তাহান্তে তা স্থগিত করেন। কারণ, সৌদি আরবের যুবরাজসহ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি কমানো এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

 

 

পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন হামলার পরিকল্পনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এবং আরও কয়েকটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এসব স্থাপনায় পারমাণবিক উপাদান বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে সামরিক সূত্রগুলোর মতে, এসব স্থাপনা গভীর ভূগর্ভে নির্মিত হওয়ায় কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলায় সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহী।

এদিকে সংঘাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‘প্রতীকী বিজয়’ খুঁজছেন ট্রাম্প?
একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এমন ধরনের হামলার কথাও বিবেচনা করছেন, যা মূলত ‘আতশবাজির প্রদর্শনীর’ মতো প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হবে। এর লক্ষ্য হতে পারে আগের হামলার মতো একই বা অনুরূপ স্থাপনায় আঘাত হেনে রাজনৈতিকভাবে একটি ‘বিজয়ের বার্তা’ দেওয়া, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না করেও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের অবস্থান বা চলমান সংকটের মূল সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

একটি সূত্রের ভাষায়, “দিনের শেষে প্রেসিডেন্ট একটি সমঝোতাই চাইবেন। তাই তিনি একদিকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবেন, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজবেন।

 

গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি মূল্যায়ন করেছে যে, চলমান বিমান হামলা ইরানের আলোচনার অবস্থান বদলে দিতে সক্ষম হবে- এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও। গত মাসে আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেন, “বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

সামনে কী পথ?
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও বাড়ানোর জন্য কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনায় এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকির কারণে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

 

অন্যদিকে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিকল্পও রয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল বা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনওই আমেরিকানদের এমন অন্তহীন বিদেশি যুদ্ধে লড়তে ও মরতে পাঠাব না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে- একদিকে সংঘাত আরও বাড়ানো, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টাপাল্টি হামলার বাস্তবতা মেনে নেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা জিততে চাই। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে- আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।সিএনএন 

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।