ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ফলে যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ইতোমধ্যে ১২ শতাংশের বেশি কমেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৭ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১১ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাই তেলের দামে এই পতনের প্রধান কারণ। কাতার মঙ্গলবার জানায়, ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। এ ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যায়।
তবে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি এখনো অস্বীকার করে আসছে ইরান। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, চলমান আলোচনা সফল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও কমবে এবং তেলের দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে কিংবা হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
এদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিফোনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলের মজুত বেড়েছে। তবে ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কমেছে, যা বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।