সরকার দেশের কোনো মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে দেখতে চায় না- এ কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে আমরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি পরিদর্শন ও তদারকি শুরু করেছি। রোববার নওগাঁ ২৫০ শয্যা সাধারণ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রোগীদের শয্যা, রান্নাঘর, বাথরুম ও ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সেবা এবং ডাক্তার-নার্সদের আচরণ নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে তিনি কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাননি; বরং সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করায় সংশ্লিষ্ট নার্সকে সতর্ক এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে বিষয়টির সুরাহা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসা চিকিৎসক ডা. দীন মোহাম্মদ সোহেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন নির্দেশ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, নওগাঁয় ডায়ালিসিস সুবিধার অভাব দূর করতে জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং টারশিয়ারি লেভেলে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দ্রুত স্থাপনের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, নওগাঁয় ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিশেষায়িত বেড, আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সারাদেশে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ ও ৫ স্তরবিশিষ্ট রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, লাইসেন্সহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে যাচ্ছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার খাবারের বরাদ্দ থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে মন্ত্রী জানান, রোগীদের খাবারের মান আরও উন্নত করতে মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা, জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস স্থাপন করা হবে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার, যাতে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি, ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রতিদিন ৩ রাউন্ডও করে ১৮০ রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না। মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করবে সরকার। শুধু ডায়ালাইসিস না, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। ১০১ থেকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট করার চিন্তা করছি এখন। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।
মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরি করা হবে। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থেকে সকল মেশিন দিয়ে এগুলো করা হবে। আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে উপজেলা লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।
এ সময় নওগাঁ -৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.vtvbd.com/health/2026/08/23/newsID_1038/© VTV BD | Bangla News | Latest News | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ২৩-০৮-২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ