ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পনগরী খুলনায় সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ বাগেরহাট জেলা সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা খুলনা শহরজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নতুন সাজে সেজেছে খুলনা মহানগরী। গেল ২২ অক্টোবর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে হেলিকপ্টারে নেমে তিনি নৌপথে মংলা বন্দর গিয়েছিলেন।
নতুন রেলস্টেশন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ শহরের অলিগলির দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে চোখধাঁধানো সব গ্রাফিতি। এসব গ্রাফিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৫ নভেম্বর বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার যোগে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
এরপর বেলা ১১টার দিকে তিনি সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। মাজার জিয়ারত শেষে দুপুরে সড়কপথে খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেবেন।
বিকাল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়। রোববার থেকেই মাঠপর্যায়ে বিশেষ তদারকি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, এএসআরবি এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গেছে, জেলা স্টেডিয়ামের ভেতরে খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের বাইরের বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত থাকবেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সুদৃশ্য তোরণ ও ফেস্টুন।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খাইরুল ইসলাম বলেন ৫ নভেম্বর খুলনাবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। খুলনা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন, যা সারা দেশের ৫০৩টি উপজেলায় সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এ বছর দেশের সাড়ে ১৬ লাখ শিক্ষার্থী এই আসরে অংশ নিতে আবেদন করেছে। এই উৎসবের জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে এই অঞ্চলটি অবহেলিত হয়ে একটি মৃতপ্রায় নগরীতে পরিণত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরটি খুলনাবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার এই সফর ঘিরে খুলনার সার্বিক উন্নয়ন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল দিকনির্দেশনা আসবে বলে আমরা আশাবাদী। নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের এত বড় একটি ক্রীড়া উদ্যোগের সূচনা খুলনা থেকে হওয়ায় সারা দেশের দৃষ্টি এখন আমাদের দিকে। খেলাধুলাকে ঘরে ঘরে এবং পেশাদারিত্বে রূপান্তর করাই প্রধানমন্ত্রীর মূল স্বপ্ন ছিল। প্রস্তুতিমূলক কাজ হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পুরো নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ছাড়াও গ্রাফিতির মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।