সকল মেনু

সবশেষ

আজ জাইমা রহমানের জন্মদিন, আইন পেশায় গড়ছেন নিজস্ব অবস্থান

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : অক্টোবর ২৫, ২০২৬
পড়তে: ৪ মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি সুপরিচিত পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমানের জন্মদিন আজ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা তিনি। পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন জাইমা রহমান।

১৯৯৫ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি অংশ বাংলাদেশে কাটানোর পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী আইন প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য

জাইমা রহমানের পারিবারিক ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। দাদি বেগম খালেদা জিয়া দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বাবা তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। মা ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক।

অন্যদিকে, তাঁর নানা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতির পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠলেও জাইমা রহমানের শিক্ষাগত প্রস্তুতি ও পেশাগত যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু আইন এবং জননীতিসংশ্লিষ্ট কাজ।

 

শিক্ষা ও আইনি পেশায় পথচলা

জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ব্যারিস্টার হওয়ার পেশাগত যোগ্যতাও অর্জন করেন তিনি।

বাংলাদেশে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষার প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হওয়া এবং পূর্ণাঙ্গভাবে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া এক বিষয় নয়।

পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন ও নীতিবিষয়ক কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের আইন প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং করসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব

জাইমা রহমানের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে তিনি আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ নিয়োগের খবর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে আইনি বিষয়াবলি তদারকি করা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে আইন ও নীতিবিষয়ক কাজে যুক্ত হওয়ার এই সুযোগ তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নেন তিনি। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও ছিলেন। দলীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সফরটিকে তাঁর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

মানবিক কাজ ও সামাজিক উন্নয়নে আগ্রহ

পেশাগত কাজের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করে।

সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জন্মদিনে প্রত্যাশা

একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে জাইমা রহমানকে ঘিরে জনপরিসরে আগ্রহ রয়েছে। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ পেশাগত ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর।

জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, আইন ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।