সকল মেনু

সবশেষ

লিটারে ২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি, এবার কোন কোন খাতে পড়বে বড় ধাক্কা?

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা। এই বৃদ্ধির বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহণ খাতসহ সব খাতে। ডিজেল-অকটেনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ভাড়া যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে কৃষির উৎপাদন ব্যয়। কারখানা থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বাড়বে। কিছু ক্ষেত্রে কারখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।

বিদ্যুৎ অথবা লোডশেডিং বন্ধ করতে এখানেও জ্বালানি ব্যবহার হতে পারে। যার ফলে সেখানেও বাড়তে পারে খরচ। এর প্রভাবে বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিপাকে পড়বেন মূলত গরিব, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ।

 

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশকিছু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পড়ে রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় এখন খরচও বাড়বে। অনেকে মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকি কমাতে সরকার শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে। তবে ব্যয় কমাতে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিদ্যমান লোডশেডিং আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সমস্যা কমালেও সমস্যা।

 

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধাক্কা। এর ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অপরদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাবে। এককথায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে। তবে তাদের মতে, মূল্য না বাড়িয়ে তেমন কোনো বিকল্পও ছিল না।

 

জানতে চাইলে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘এমনিতে পণ্যমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। আয় নেই। বেকারত্ব বাড়ছে। এ অবস্থায় নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধাক্কা। অর্থনীতির সব খাতে এর প্রভাব পড়বে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং কমে যাবে ক্রয়ক্ষমতা। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি, শিল্প ও সেবার দাম বাড়বে। বিশেষ করে সাধারণ ও খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা কারও বোধগম্য নয়।

 

এছাড়াও মধ্যবিত্তের ওপর বড় প্রভাব পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বাড়বে। এতে বাড়বে ফসলের দাম। এছাড়া পরিবহণ ব্যয়, মানুষের যাতায়াতের ভাড়া, শিল্পের উৎপাদন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য-সবকিছুই বাড়বে। বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ। সবকিছু মিলে মানুষের জীবন আরও অস্বস্তিতে পড়বে।

 

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। আর ভূরাজনীতির কারণে আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। ইতোমধ্যে দেওয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাইলেই রাশিয়া বা চীনের মতো দেশ থেকে জ্বালানি তেল কেনা যায় না।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।