সকল মেনু

সবশেষ

এআই-তে ফিরছে ৮০-৯০ দশক, নস্টালজিয়ায় মজেছে সোশ্যাল মিডিয়া

ভিটিভি বিডি ডেক্স

ভিটিভি বিডি ডেক্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
পড়তে: মিনিট
ফন্ট সাইজ:
0Shares

 

একটি ছবি, অথচ যেন কয়েক দশক আগের কোনো সিনেমার দৃশ্য! পুরোনো দিনের পোশাক, চুলের স্টাইল, সিনেমার পোস্টারের মতো রঙ, ফিল্ম ক্যামেরার আবহচ সবকিছু মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চোখে পড়ছে ৮০ ও ৯০ দশকের নান্দনিকতায় তৈরি অসংখ্য ছবি। তবে এগুলো পুরোনো ক্যামেরায় তোলা নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে তৈরি হচ্ছে এসব ছবি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এই ট্রেন্ড ইতোমধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নিজেদের ছবি এআই টুলে দিয়ে সেটিকে ৮০ বা ৯০ দশকের সিনেমার চরিত্রের মতো করে তুলছেন। কেউ হচ্ছেন পুরোনো দিনের নায়ক, কেউ নায়িকা, আবার কেউবা ফিরে যাচ্ছেন সেই সময়ের শহর, রাস্তা, সিনেমার পোস্টার কিংবা ফ্যাশনের আবহে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই ছবিগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক বা চেহারা অনুকরণ করছে না। বরং এআই একসঙ্গে তৈরি করছে পুরো একটি সময়ের অনুভূতি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুরোনো ফিল্মের গ্রেইন, অ্যানালগ ক্যামেরার আবহ, নরম আলো, রেট্রো কালার টোন এবং সেই সময়ের পরিচিত ফ্যাশন।

প্রশ্ন হলো, হঠাৎ করেই কেন ৮০-৯০ দশকের প্রতি এই আগ্রহ?

এর উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে নস্টালজিয়ায়। বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ সেই সময় সরাসরি দেখেনি। কিন্তু সিনেমা, গান, পুরোনো ছবি ও পরিবারের গল্পের মাধ্যমে সেই সময়ের সঙ্গে তাদের পরিচয় তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যারা ওই সময়ের মানুষ, তাদের কাছে এআই-এর তৈরি এসব ছবি যেন পুরোনো স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরে পাওয়ার সুযোগ।

এখানে এআই শুধু ছবি তৈরি করছে না, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠছে স্মৃতি পুনর্নির্মাণের একটি মাধ্যম।

একসময় নিজের কোনো ছবি ৮০ বা ৯০ দশকের সিনেমার মতো করে তুলতে হলে পোশাক, সেট, ক্যামেরা, আলো-সবকিছুর প্রয়োজন হতো। এখন কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েই এআই সেই আবহ তৈরি করে দিতে পারছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও নিজেদের কল্পনার একটি ‘পুরোনো সংস্করণ’ তৈরি করতে পারছেন।

এই ট্রেন্ডের আরেকটি দিক হলো ফ্যাশন। পুরোনো দিনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, স্যুট, চশমা, চুলের স্টাইল কিংবা সিনেমার পোস্টারের মতো পোজ-সবকিছুই নতুন প্রজন্মের কাছে আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। অর্থাৎ এআই শুধু অতীতকে দেখাচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ফ্যাশনকেও নতুন করে জনপ্রিয় করে তুলছে।

তবে এর সঙ্গে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখতে বাস্তব মনে হলেও এগুলো বাস্তব সময়ের ছবি নয়। ফলে ছবিটি যে এআই-নির্মিত, সেটি স্পষ্ট করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো বাস্তব ঘটনা, ব্যক্তি বা ঐতিহাসিক সময়ের ছবি হিসেবে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তারপরও সৃজনশীলতার জায়গা থেকে এই প্রবণতাকে একেবারে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ প্রযুক্তি এখানে শুধু ভবিষ্যৎ তৈরি করছে না, বরং অতীতকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।

হয়তো এ কারণেই ৮০-৯০ দশকের সেই পুরোনো সিনেমাটিক আবহ আজকের ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পার্থক্য শুধু একটাই—তখন ছবি তৈরি করতে প্রয়োজন ছিল ক্যামেরা ও স্টুডিও, আর এখন অনেকের হাতেই রয়েছে এআই।

সময়ের চাকা পেছনে ঘোরে না, কিন্তু এআই-এর সাহায্যে একটি ছবি মানুষকে কয়েক মুহূর্তের জন্য ফিরিয়ে নিতে পারে সেই সময়ের কাছাকাছি। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮০-৯০ দশকের এআই ছবির জনপ্রিয়তা হয়তো সেই নস্টালজিয়ারই নতুন ডিজিটাল সংস্করণ।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।