সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিফাতকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয় ওরফে কাট ভাই (২৭) ও সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-৩ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় নাফিজা শেখ নেহার ভাড়া বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ সময় সিফাতের সেখানে আসার খবর পেয়ে ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় যায়। আল আমিন হোসেন জয় তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে জয়ের সহযোগীরা বাসায় ঢুকে সিফাতের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ায়। ধস্তাধস্তির সময় ইয়াছিন ও রাজু আহত হয়। পরে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে পেছন থেকে ইট ছুড়ে মারে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইটের আঘাতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর জয় ও তার সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। পরে তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
র্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব-৩ সিও বলেন, সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন। নাফিজা শেখ নেহার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদের সঙ্গে নেহার চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সিফাতের সঙ্গে নেহার সম্পর্কের বিষয়টি সাজিদ জানতেন না।
গত ২৫ আগস্ট নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে সাজিদ জানতে পারেন, সিফাতের সঙ্গেও নেহার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানার পর নেহার সঙ্গে সাজিদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
অন্যদিকে, আল আমিন হোসেন জয় নেহার সঙ্গে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে পরিচিত ছিলেন। জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে নেহার ভাড়া বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে জয়সহ তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
র্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।